জয়সাগর নিউজ ডেস্ক:
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার থাকা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। ওইদিন দেশের ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হওয়া সেই বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ গঠিত ১৫ সদস্যের কমিটি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন,ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। আজকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটির অনুমোদন দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ১৪টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি ইউনিয়ন ও একটি ওয়ার্ডে ‘ইউনিভার্সেল ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে। ঈদুল ফিতরের আগে আগামী ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য রাখা হবে না। এটি হবে সম্পূর্ণ ‘ইউনিভার্সেল’ কার্ড ব্যবস্থা। এ বিষয়ের সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলটিং কার্যক্রম চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে প্রতিটি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। প্রথমে একটি ওয়ার্ড, পরে একটি ইউনিয়ন এবং পরবর্তী সময়ে আরও এলাকা এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এভাবেই সারা বাংলাদেশ এটার সেবা পাবে এবং সুবিধাভোগী হবে।
তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোনোভাবেই ঘরে বসে কোনও বাছাই হবে না। বাছাই হবে মাঠ পর্যায়ের তথ্যের মাধ্যমে। কাউকে বৈষম্য করা হবে না, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। এটার মধ্যে কোনও গোয়েন্দা বা দলীয় সম্পৃক্ততা নেই। জাহিদ হোসেন বলেন, আপাতত পরীক্ষামূলক চালু হলেও আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিংয়ের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলাকে এর আওতায় আনা হবে। আমরা হয়তো একটা উপজেলা পুরোটা প্রথমেই কভার করতে পারবো না, হয়তো প্রথমে একটা ওয়ার্ড, একটি ইউনিয়ন, এভাবে আমরা পর্যায়ক্রমে কভার করবো। এভাবেই সারা দেশ এটার সেবা পাবে এবং সুবিধাভোগী হবে। সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে তালিকা করা হবে না। ডোর টু ডোর’ বা ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিশ্বাস বা ধর্মীয় বৈষম্য থাকবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এতে কোনো দলীয় বা গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকবে না।’ মন্ত্রী আরো জানান, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তদারকির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভুলত্রুটি এড়াতে ‘দ্বিস্তর বিশিষ্ট’ চেকিং ও রি-চেকিং ব্যবস্থা থাকবে। অর্থসংস্থানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে হওয়ায় আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয়ের থোক বরাদ্দ থেকে এই অর্থের সংস্থান করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে এটি নিয়মিত বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হবে।



















