
জয়সাগর নিউজ ডেস্ক:
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার দিন থেকেই দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গেলো ১৩ নভেম্বর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগ বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মসূচি দিয়ে আসছে।
আর দেশে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসররা বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছিল। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং হাইওয়েতে গাছের টুকরা ফেলে জনজীবনের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় দুর্বৃত্তদের সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। গতকাল সোমবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদ-াদেশের আদেশ হয়। এতে দিশাহারা হয়ে পড়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা। শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সারা দেশের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু এ রায় প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদ-াদেশের রায়কে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এক ভিডিও বার্তা দেন দলটির সভাপতিম-লির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। সেখানে তিনি এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করে মন্তব্য করেছেন। সেখানে বলা হয়, আজ যে রায় ঘোষণা করেছে এ রায় বাংলার জনগণ প্রত্যাখ্যান করে। বাংলার জনগণ এ রায় মানে না, মানবে না।
সেখানে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সৃষ্টির অপরাধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আজ জাতির জনকের কন্যাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে। মাঝখানের পরিবর্তন শেষ। তিনি বলেন, অবৈধ আদালত যে মামলার রায় দিয়েছে সেটি ১৪ আগস্ট শুরু করে ১৭ই নভেম্বর মামলা শেষ করেছে। ৮৪ জন সাক্ষীকে সামনে রেখে ৫৪ জনকে হাজির করে ২০ দিনে মামলা শেষ করেছে। এই দুই মাসের মধ্যে মাত্র ২০ দিন আদালত চলেছে। এর প্রধান বিচারক গত এক মাস অনুপস্থিত ছিলেন। তারপরেও প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়ে মানুষের প্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, অচিরেই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করব। এই রায়ের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সারা বাংলাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শাটডাউন পালনের ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে এ শাটডাউন ঘোষণায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার শঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন ইনকিলাবকে বলেন, আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা নেই। পুলিশ সব সময় অ্যালার্ট রয়েছে। জেলা শহরগুলোতে রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা কেউ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আগেই সব জেলার এসপিকে পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশ দেয়া আছে। পুলিশ অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। আমাদের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে সব দিকে। সে অনুযায়ী পেট্রোলিং চলছে। অপরাধ করে কেউ এড়াতে পারবে না। বিভিন্ন নাশকতার সাথে জড়িতসহ অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় ১৭শ’র বেশি ব্যক্তি গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপরাধ না হয় সে জন্য অতি তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চারটি জেলায় মাঠে ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। ঢাকাসহ সারাদেশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। র্যাব পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল-মোটেল ও মেস-বাসায় অভিযান ছিল। রাস্তায় রাস্তায় ছিল পুলিশের টহল। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাই অব্যাহত থাকবে আজ মঙ্গলবারসহ সামনের দিনগুলোতেও। কাজেই আতঙ্কের কিছুই নেই।