ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই:
৭২৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল
জয়সাগর নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষ হয়েছে গতকাল। বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৪২ জন। সারা দেশে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। বাতিল করা মনোনয়নপত্রের সংখ্যা ৭২৩টি। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনের ৩টি মনোনয়নপত্র কোনো প্রকার যাচাইবাছাই ছাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে ১৩৩টি। সবচেয়ে কম বাতিল হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে ৩১টি। প্রতিটি আসনে গড়ে ৬ জন প্রার্থী লড়বেন। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে বাছাই শুরু হয়ে গতকাল তা শেষ হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, যাচাইবাছাই শেষে অঞ্চল বা বিভাগ অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ঢাকা অঞ্চলে ৩০৯ জন, এ অঞ্চলে বাতিল হয়েছে ১৩৩টি মনোনয়নপত্র। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৩৮ জন এবং বাতিল হয়েছে ৫৬ মনোনয়নপত্র। রাজশাহী অঞ্চলে ১৮৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, আর বাতিল হয়েছে ৭৪টি। এ ছাড়া খুলনা অঞ্চলে ১৯৬ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। আর অবৈধ হয়েছে ৭৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। বরিশাল অঞ্চলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৩১ জন আর বাতিল হয়েছে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। সিলেট অঞ্চলে ১১০ জন প্রার্থীর আবেদন বৈধ হয়েছে, বাতিল হয়েছে ৩৬ জনের। ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৯৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেছে, বাতিল হয়েছে ১১২ জনের। কুমিল্লা অঞ্চলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ২৫৯ জন, বাতিল হয়েছে ৯৭ জনের। রংপুর অঞ্চলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ২১৯ জন ও বাতিল হয়েছে ৫৯ জনের এবং ফরিদপুর অঞ্চলে ৯৬ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন, বাতিল হয়েছে ৪৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। তবে যাচাইবাছাইয়ে যাঁদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তাঁরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আজ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের
২ হাজার ৯০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৪৭৮ জন। ৩০০ আসনে আড়াই সহস্রাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলে মানতে হবে ৭ নির্দেশনা-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাঁদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা যাবে ৭ নির্দেশনা মেনে। নির্দেশনাগুলো প্রার্থীদের মাঝে প্রচারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশনাগুলো হলো : ১. আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে। ২. আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণসংবলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে। ৩. আপিল আবেদনের একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে। ৪. আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব-স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে। ৫. আপিল আবেদন ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে দায়ের করতে হবে। ৬. আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে। ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়েরসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ৭. আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারী পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আপিল দায়েরের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থাকবে ১০টি বুথ। বুথ নং-১ (খুলনা অঞ্চল) : মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা। বুথ নং-২ (রাজশাহী অঞ্চল) : জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা। বুথ নং-৩ (রংপুর অঞ্চল) : পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা। বুথ নং-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল) : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং বান্দরবান। বুথ নং-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর। বুথ নং-৬ (সিলেট অঞ্চল) : সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ। বুথ নং-৭ (ঢাকা অঞ্চল) : টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
বুথ নং-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল) : জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা। বুথ নং-৯ (বরিশাল অঞ্চল) : বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর। বুথ নং-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল) : রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর।



















