২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, এখন সময় সকাল ৬:২৪ মিনিট
  1. অর্থ ও বাণিজ্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা
  4. খেলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. ধর্ম
  8. নির্বাচন
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. শিক্ষাজ্ঞন
  12. শিল্প ও সাহিত্য
  13. সারাদেশ

চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে জনগণ: ঢাকায় জনসভায় জামায়াত আমির

প্রতিবেদক
joysagor
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

জয়সাগর নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তরুণ যুবকরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিয়েছে। পুরোনো বন্দোবস্তের সঙ্গে তারা নেই। বস্তাপচা রাজনীতি আর ফিরিয়ে আনতে চায় না তারা। সারা দেশ আজ জেগে উঠেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ নতুন বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেবেন। রোববার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলামের হাতে দলীয় প্রতীক শাপলা কলি তুলে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির উত্থান আমরা দেখতে চাই।
জনগণ ১২ তারিখে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে। যারা আধিপত্যবাদের গোলাম তাদেরও লাল কার্ড দেখাবে।

তিনি বলেন-আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, হাদি-আমরা তোমাদের কাছে এবং তোমাদের বন্ধুদের কাছে বড়ই ঋণী। আমরা কথা দিচ্ছি, তোমাদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ হলে এবং দেশ এবং জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে তোমরা যেমনটা চেয়েছিলে আমরা তেমন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। ২৪-এর যুবকরা কেউ বেকার ভাতা চায়নি। বেকার ভাতার জন্য স্লোগানও দেয়নি। সেদিন যুবকেরা বলেছিল আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দাও, আমাদের কাজ দাও। বেকার ভাতার কথা হচ্ছে যুব সমাজকে অপমান করা। এই কার্ড, সেই কার্ডের কথা শুনছি। দশ টাকা চালের কেজির কথা ছিল ভুয়া, তেমনি এই কার্ডগুলোও হবে ভুয়া। এ রকম ভুয়া কার্ডদাতাদের ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ লাল কার্ড দেখাবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ দেখেছি। ২৪ আমরা পেয়েছি। ৪৭-এ যে আকাঙ্ক্ষা ছিল হুবহু ৭১ সালেও সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল। ২৪-এ সেই একই আকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ৪৭-এর পর ২৩ বছর আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। ৭১-এর পরে ৫৪ বছরেও সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এখন ৫৪ বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। চব্বিশে আমাদের যুবক ও ছাত্রসমাজ বিশাল কোনো দাবি নিয়ে আসেনি। তাদের একটি ন্যায্য ও সাধারণ দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। সেটা হলো কোটা সংস্কারের আন্দোলন। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার যুব ও ছাত্রসমাজকে দমানোর চেষ্টা করেছিল। ১৫ তারিখ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে যখন হাত তুলেছিল, সারা বাংলাদেশের মানুষ তখন জ্বলে উঠেছিল। তার পরের দিন ১৬ তারিখ উত্তরবঙ্গের এক সিংহপুরুষ আবু সাঈদ রাস্তায় নেমে বলেছিল-‘হয় আমার অধিকার দে, না হয় আমাকে গুলি দে।’ সে ডানা পেতে বলেছিল, ‘বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।’ রাস্তায় বীরের মতো দাঁড়িয়েছিল। একে এক করে তিনটি গুলি করে খুন করা হয়েছে তাকে।

জামায়াত আমির বলেন, আপসোস! আমরা যারা সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের জাঁতাকলে পিষ্ট ছিলাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আলেম-উলামা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের সদস্য, কৃষক-শ্রমিক-যারাই ছিলাম এর মধ্যে একটা অংশ এই মজলুম অবস্থার পরিবর্তন করে রাতারাতি জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যেসব অপকর্ম করে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় এই জাতিকে কষ্ট দিয়েছে, একই অপকর্ম একটা অংশ করা শুরু করে দিল। আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করলাম, মজলুম ছিলেন-জালিম হবেন না। মজলুমের কথা তো বোঝার কথা, এখন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন? তিনি বলেন, ২৪ সালের আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত তাদের জ্বালায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতে বসে যে ভিক্ষুক ভিক্ষা করে তার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। আমাদের সন্তানদের বুকে নিয়ে জুলাই লড়াই এজন্য কি করেছিলাম?

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল-‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা ন্যায়বিচার দেখতে চাই এবং শান্তিতে থাকতে চাই। আপনারা দেখেছেন একটি দল মাঝেমধ্যে বলে তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। এটা ভালো কথা। এই ভালো কাজটা নিজের ঘর থেকে শুরু করেন। ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাতদের আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বেন-এটা আদৌ সম্ভব না। জনগণ এটা বোঝে।

তিনি আরও বলেন, বিচার একেকজনের জন্য একেক রকম হবে না। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে ওই নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য তার যে শাস্তি হবে, দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলেও তাদের ছাড় দিয়ে কথা বলব না। একই ভাবে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। সেদিনই ন্যায়বিচার কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের টাকা লুণ্ঠন করে যারা বিদেশে পাচার করেছেন সে টাকা তাদের নয়। ১৮ কোটি মানুষের টাকা। রাষ্ট্রের আয়ের খাত তিনটি- ট্যাক্স, বিদেশি অনুদান এবং বিদেশি ঋণ। এই তিনটি খাত মিলিয়ে রাষ্ট্রের তহবিল। আমরা কথা দিচ্ছি, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যদি নতুন বাংলাদেশ হয়, তাহলে নতুন বাংলাদেশের এই প্রাপ্য ষোলোআনা আদায় করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।

তিনি বলেন, একটি কথা আল্লাহতায়ালাকে সাক্ষী রেখে বলব-মানুষের জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জত এ তিনটির পাহারাদার হব। যারা এমপি হবেন তারা জনগণের সামনে প্রতিবছর তাদের পরিবারের সদস্যসহ পারিবারিক সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য হবেন। আমাদের দেশে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই। ঘরেও নেই, রাস্তায়ও নেই এবং কর্মস্থলেও নেই। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যে জাতি তার মায়েদের সম্মান করতে জানে, সেই জাতিকে আল্লাহতায়ালা সম্মান বাড়িয়ে দেন।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুবক বন্ধুরা বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তোমরা তৈরি হয়ে যাও। আমরা বিশ্বাস করি, যুবকরা বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ দেশের মানুষ মেধাবী এবং পরিশ্রমী। অতীতের নেতৃত্বের মধ্যে সততার অভাব ছিল। তাদের মধ্যে দুর্নীতির হাত বন্ধ রাখার শপথ ছিল না। দেশের প্রতি দায় ছিল না। এজন্য বাংলাদেশ আগাতে পারেনি। আমরা আশা করব, যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না।

নাহিদ ইসলামকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাহিদ আপনাদের এলাকার সন্তান। আমার চাইতে নাহিদকে আপনারা ভালো চেনেন। কিন্তু এটা বলতে চাই, আল্লাহর মেহেরবানিতে যদি ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় অর্জিত হয়-তাহলে সেই সরকারে অবশ্যই নাহিদ ইসলামকে আপনারা একজন মন্ত্রী হিসাবে দেখতে পাবেন। আমরা হাতে হাত ধরে একসঙ্গে কাজ করব। বেইনসাফমুক্ত, জুলুমবাজমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত একটা ন্যায় ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমরা হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার পেছনের মূল কারণও রাজনৈতিক। আর সেই রাজনৈতিক কারণটি হচ্ছে ভূমিদস্যুতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যারা প্রধান দুই দল হিসাবে পরিচিত ছিল, তাদের এখানকার স্থানীয় নেতারাই ৩০ বছর ধরে ভাগবাঁটোয়ারা করে ভূমি দখল করেছেন। নির্বাচিত হলে ঢাকা-১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।

তিনি বলেন, এই এলাকার শত শত মানুষের জমি, শত শত খাসজমি, সাধারণ জলাশয় দখল করে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এতে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। যারা রাজনীতির ময়দানে ছিলেন, তারাই ভূমিদস্যু হিসাবে এ কাজগুলো করেছেন অথবা ভূমিদস্যুদের সহায়তা করেছেন। গত ৩০ বছরের ইতিহাস হলো, ভূমিদস্যুদের ভূমি দখলের ইতিহাস, জমি দখলের ইতিহাস, নদী দখলের ইতিহাস। আগস্টের আগে যারা প্রধান দুই দল হিসাবে পরিচিত ছিল, তাদের এখানকার স্থানীয় নেতারাই ভূমি দখল করে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। ৫ আগস্টের পরে একজন চলে এসেছেন। আর এখানে যিনি দখলদারি ও চাঁদাবাজি করতেন, তিনি তার স্থানে চলে গেছেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নাহিদ ইসলামের জন্য ঢাকা-১১ আসন ছেড়ে দেওয়া জামায়াত নেতা ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির মুখপাত্র সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ - শিক্ষাজ্ঞন

আপনার জন্য নির্বাচিত

সমস্যাকে করতে হলে জব্দ, শব্দ শিখো— আরও বেশি শব্দ!

রায়গঞ্জে সাংবাদিককে নিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হৃদয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের

ছড়িয়ে পড়েছে ফুলবাড়ীতে গরুর ল‍্যাম্পি স্কিন রোগ- ৭১ বার্তা

তাড়াশে খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা কামনায় দোয়া মাহফিল

৩৫ নারী আসনে ৫০০ প্রার্থী

তাড়াশে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাতে ধান কাটার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকায় রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে

রাজধানীতে নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বেগম খালেদা জিয়া ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্টপ্রতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর সমাধিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড-এর উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন