মোঃ আলাল উদ্দিন, পাবনা জেলা প্রতিনিধি :-
পাবনা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চলমান এই অচলাবস্হা সত্যিই একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। গত এক মাস ধরে সাধারণ মানুষের জমি কেনাবেচা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সরকারি রাজস্ব সহ বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। জুরুরি চিকিৎসার খরচ বা অন্যান্য প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে না পারাই চরম ভোগান্তিতে জনগন।
জানা যায়, সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলীর উপর প্রাণনাশের হুমকি, হামলা, ভাংচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সহ বিভিন্ন বিষয়ে দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে ৩ টি মামলা হয়। মামলা ও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ৬ জন দলিল লেখকের সনদ বাতিল ও অফিস আঙিনায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত দলিল লেখকরা হলেন- পাবনা সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ইসহাক উল আলম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম শাহীন, আব্দুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, হাসান মাহমুদ পাপ্পু ও গোলজার হোসেন। দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সমিতি ও বিভিন্ন বিষয়ের কথা বলে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সনদ বাতিলের প্রতিবাদে দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেন।
সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আসা সেবাগ্রহীতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমার টাকার খুব প্রয়োজনে জমি বিক্রি করছি কিন্তু রেজিস্টি বন্ধ থাকায় খুবই বিপদে আছি। দুই এক দিন পর-পর এসে খোঁজ নেই অফিস চালু হবে কোন দিন। দীর্ঘ দিন যাবত এই অফিসে কিছু হলেই বন্ধ ঘোষণা করে জনগণের ক্ষতি করে দাবি আদায় করা হয়।
সামাজিক সংগঠন তারুণ্যের অগ্রযাত্রার কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক জুবায়ের খান প্রিন্স বলেন, জেলা প্রশাসন বরাবর আমরা মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে আইন মন্ত্রনালয়ের কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে অন্য কোনো সাব-রেজিস্ট্রারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে জরুরি দলিল সম্পাদানের ব্যবস্হা করা উচিত। প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফিসে পুলিশি পাহারার ব্যাবস্থা করা যাতে তারা নির্ভয়ে কাজে ফিরতে পারেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকার ও সদর সাব-রেজিস্ট্রার আশিষ কুমারের সাথে মোবাইল বার বার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয় নাই।



















