মাসুদ রানা বাচ্চু সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলো জমে উঠেছে। কম দামে শীতের পোশাক কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে বিক্রেতারা জানান, ঢাকার বাজারে পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় তাদের পণ্যের মূল্যও কিছুটা বেড়েছে। ফুটপাতের দোকানগুলো দরিদ্র মানুষের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে, যদিও ক্রেতাদের দাবি, দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাদের কষ্ট অনেক কমে যাবে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতে শীতবস্ত্রের চাহিদা ও বিক্রিও বেড়ে যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের পৌর মার্কেট, বড় বাজার, হরিণা পিপুল বাড়ি বাজার, সিমান্ত বাজার ফুটপাতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে শীত পোশাক কেনাবেচা। এসব দোকানে কম দামে গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত-সবাই ফুটপাতের দোকান গুলোতেই শীতের পোশাক খুঁজছেন।
গোবিন্দ পোটল গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, ‘মার্কেটে কাপড়ের দাম বেশি। এখানে ফুটপাতে কম দামে ভালো শীতের কাপড় পাওয়া যায়। তাই পরিবারের জন্য কয়েকটা পোশাক কিনতে এসেছি। কিন্তু এবার কাপড়ের দাম একটু বেশি।
হরিণা গোপাল গ্রামের শীতবস্ত্র কিনতে আসা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটপাতের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। তবে গত বছরের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় কেনাকাটা করতে পারছি না।
যদিও কিছু ক্রেতা দোকান থেকে প্রয়োজনীয় পোশাক খুঁজে নিচ্ছেন, তবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর ও শিশুদের শীতের পোশাকসহ সব ধরনের শীতবস্ত্র পাওয়া যায়। কম দামে ভালো পোশাক কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
ফুটপাতের বিক্রেতা শ্রী সুদেব কুমার জানান, শীতের শুরুতেই তার দোকানে বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘ঢাকার বাজারে কাপড় কিনতে বেশি খরচ হওয়ায় এবার পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। আমরা ঢাকায় পাইকারি বাজার থেকে মাল কিনি। কিন্তু এবার সেখানে দাম বেশি। তাই খুচরা বিক্রিতে দাম একটু বেশি পড়ছে। তবে শীতের তীব্রতার কারণে বিক্রিও মোটামুটি ভালো হচ্ছে।
বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন জানান, বছরের এই সময়টার জন্য তারা অপেক্ষা করেন। শীতের মৌসুমে তাদের আয় অনেক বেড়ে যায়। ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে উপার্জিত অর্থে অনেক পরিবারের চলে। এসব দোকান পরিচালনা করে সাধারণত দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। তারা সারা বছর বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকলেও শীতের মৌসুমে এসব দোকান চালিয়ে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ পান।
বিক্রেতারা আরো বলেন, তাদেরও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে। অর্থাৎ তাদেরও শীতের মৌসুমে লাভবান হওয়ার জন্য বাজারের চাহিদা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হচ্ছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জানান, ফুটপাতের দোকানগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য একটি লাভজনক ব্যবসায়িক জায়গা হয়ে উঠেছে। এটি বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ, যেখানে কম দামে শীতবস্ত্র কেনার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে সব পক্ষই আরও বেশি উপকৃত হতো।



















