জয়সাগর নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সব বিষয়ে আমরা বিরোধিতা করব না। আবার না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সেসব ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। বুধবার বিরোধী দলের সংসদীয় দলের সভা শেষে সংসদ ভবনের এলডি হলে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধী দলের সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বিরোধী দলের সব সংসদ-সদস্যকে নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিরোধী দল হিসাবে এবং দেশ ও জাতির জন্য আমাদের ভূমিকা কী হবে-সেসব বিষয়ে আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করেছি। তিনি বলেন
আমরা চাই-জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক। ইতোমধ্যেই আমরা ঘোষণা করেছি-বিরোধী দল হিসাবে আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমরা আগেই বলেছি-বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। সহযোগিতা করলে তা হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে, আর বিরোধিতা করলে সেটিও হবে দেশ ও জনগণের অধিকারের পক্ষে। প্রয়োজনে সংসদের ভেতরে আমরা লড়াই করব, প্রয়োজন হলে রাজপথেও করব। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। হুটহাট করে আদালতে যাওয়ার পক্ষে আমরা নই। একান্ত প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেব।
ডা. শফিকুর বলেন, প্রথমে আমরা ভুল ধরিয়ে দেব। সংশোধনের সুযোগ দেব ও পরামর্শ দেব। যদি দেখি পরামর্শে কাজ হচ্ছে না তাহলে আমরা প্রতিবাদ করব। প্রতিবাদেও কাজ না হলে জনগণের অধিকারের পক্ষে আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। আমরা চাই-প্রথম ধাপেই সমস্যার সমাধান হোক। তিনি আরও বলেন, এটি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। যেহেতু তারা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অনেক কিছু করা সম্ভব। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেটিই জাতির জন্য উত্তম হবে। তিনি বলেন, এ সংসদ হঠাৎ করে গঠিত হয়নি; এটি একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে হয়েছে। সংসদ বহুবার পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারেনি।
ডা. শফিকুর বলেন, সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। সাড়ে ১৫ বছরের সংগ্রাম, নির্যাতন, গুম-খুন, কারাবরণ, আয়নাঘর এবং দেশান্তরের মতো বহু কষ্টের বিনিময়ে এ পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, আমরা যেমন ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক বাঁক বদলগুলো ধারণ করি, তেমনি ২০২৪ সালের ঘটনাকেও আমরা গভীরভাবে ধারণ করি।
জামায়াতের আমির বলেন, স্বাধীনতার পরও এ দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীন নাগরিক হিসাবে তাদের অধিকার ভোগ করতে পারেননি। বারবার স্বৈরশাসন জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে, দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য হয়েছে এবং মানুষের অধিকার খর্ব হয়েছে। তাই জুলাই আন্দোলন বলেছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’ আমরা সব ক্ষেত্রে সুবিচার চাই এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবারের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে-একটি সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি সংস্কার নির্বাচন। যে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই একই অর্ডিন্যান্সের আওতায় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার পরিষদ গঠনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করবে বিরোধী দল : এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদ উত্তপ্ত হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। গণভোটে পাশ হওয়া জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইস্যুতে উত্তাপ ছড়াবে। প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের সময় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদে থাকলেও রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় তারা ওয়াকআউট (বয়কট) করতে পারেন। সংবিধান সংস্কার ছাড়া বিএনপির প্রস্তাবিত ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল নেবে না বলে জানা গেছে।
প্রথম অধিবেশন উপলক্ষ্যে বুধবার বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যদের নিয়ে বৈঠক শেষে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংসদে আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত-সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ সংসদ-সদস্য নতুন হওয়ায় তাদের ক্রাইটেরিয়া ও ক্যারেক্টার বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি স্পিকারের পদ জামায়াত নেবে কিনা সে বিষয়ে তিনি বলেন, যখন প্রস্তাব আসবে তখন আমরা জানাব। বৃহস্পতিবার সব খোলাসা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে আমরা পরিষ্কার নই।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হবে; সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা হবে-এরপর ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে আমরা নাকচ করেছি। কারণ এভাবে তো সংসদে ডেপুটি স্পিকার নিতে চাইনি। সংসদে আলোচনা হবে-জুলাই সনদের বিষয়টি আগে নিষ্পত্তি হতে হবে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার নেবে বিরোধী দল। কোনো দয়ায় নয়, অধিকার বলেই পাবে জামায়াত।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের যুগান্তরকে বলেন, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধন হলে দুটি ডেপুটি স্পিকার পদের একটি এমনিতেই পাবে জামায়াত। এর আগে বর্তমান সংবিধানের মধ্যে জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার সরকারের প্রস্তাবকে একটি ফাঁদ বলে আমরা মনে করি। জামায়াত সেই ফাঁদে পা দেবে না। ডেপুটি স্পিকারের পদ নিলে তারা বলবে-জামায়াত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় না।



















