জয়সাগর নিউজ ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশ পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এবারের জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাধ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে। গত ১৬ বছরে দেশে বহু মেগা প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।
বরং এসব প্রকল্পের আড়ালে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে সবার আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সময় এখনই এসেছে। ১২ তারিখের নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই দিনে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে— কারা দেশ পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, শুধু বিরোধী দলের সমালোচনা করে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণে প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দেশে ব্যবসা বা বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া প্রতিটি গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ঢাকা-১৫ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা ‘১০০ ফিট রাস্তা’র কাজ দ্রুত শুরু ও নতুন হাসপাতাল স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই আসনের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি যারা বিদেশে চাকরির উদ্দেশে যেতে চান, তাদের সহজশর্তে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
নগরীর সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পানির সমস্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার গঠন করলে সবার আগে ঢাকার খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে দুপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মানিকদী-বালুঘাট হয়ে জসীমউদ্দীন পর্যন্ত সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি এ এলাকায় একটি খেলার মাঠসহ ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে শুধু ঢাকা-১৭ নয়, সমগ্র ঢাকা শহরকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি ঢাকা শহর গড়তে চাই, যেখানে মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে যেকোনো সময় চলাচল করতে পারবেন, শিশুরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করতে পারবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই এলাকার সন্তান হিসেবে আপনাদের সেবা করার সুযোগ চাই। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সেখান থেকে পল্লবীতে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হকের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি মিরপুরে পৌঁছান। মিরপুরের সভায় ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
গতকাল নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে পৃথক জনসভায় অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আয়োজিত এসব জনসভায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বরে জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে, ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, পরে ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় গেটে, ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং সর্বশেষ ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডার সাঁতারকুলের সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখেন।



















