ওয়াসিম সেখ:
দুর্যোগে মানুষের জীবন বাঁচাতে ছুটে চলেন যারা, সেই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাই এখন রয়েছেন আতঙ্কে| সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম চলছে একটি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে, যেকোন সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে|
১৯৬১ সালে নির্মিত দুইতলা ভবনটি শহরের ইলিয়াড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত| নিচতলায় গাড়ির গ্যারেজ ও অফিস এবং উপর তলায় আবাসিক কক্ষ থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে| বিভিন্ন স্থানে ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার এবং ভাঙা বীম চোখে পড়ছে| বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে কক্ষের ভেতরে|
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমান অবস্থায় ভবনটি ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ| মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও এটি ধসে পড়তে পারে| তবুও বাধ্য হয়েই এখানেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা|
অন্যদিকে, প্রথম শ্রেণির জেলা হিসেবে সিরাজগঞ্জের গুরুত্ব বাড়লেও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এখনো দ্বিতীয় শ্রেণিরই রয়ে গেছে| ফলে আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ইউনিটের ঘাটতি রয়েছে| বহুতল ভবনে আগুন নেভাতে টার্নটেবল ল্যাডার (ঞঞখ) গাড়ি নেই, নদীঘেরা এ জেলায় নেই কোনো ডুবুরি ইউনিট|
যমুনা নদী তীরবর্তী এই জেলায় ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, মেডিকেল কলেজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো| সামনে আরও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে| এমন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী ও আধুনিক ফায়ার সার্ভিসের অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে|
সিরাজগঞ্জ চে¤^ার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জেলার গুরুত্ব অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা জরুরি| একই সঙ্গে ডুবুরি ইউনিট চালু করতে হবে|
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জানান, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় প্রায়ই প্লাস্টার খসে পড়ে এবং বৃষ্টির সময় পানি পড়ে| নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি|
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হবে|
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ প্রথম শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করা হোক|



















