
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র| বিভিন্ন উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর এখন মুখ রক্ষার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প| এ জন্য ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতার পথ খুঁজছেন, যাতে মার্কিন জনগণের কাছে তার ‘সম্মান রক্ষা’ হয়- এমন মন্তব্য করেছেন তেহরানভিত্তিক এক বিশ্লেষক|
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তাৎক্ষণিক কোনও সমঝোতার লক্ষণ তিনি দেখছেন না|
তার ভাষায়, “চীন সফরে যাওয়ার আগে ট্রাম্প কিছু একটা অর্জন করতে চেয়েছিলেন| কিন্তু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন|”
দারেইনি আরও বলেন, “ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী লবির পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে এমন একটি ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরান পিছু হটবে এবং আত্মসমর্পণ করবে| কিন্তু ইরান নতি ¯^ীকার করেনি এবং লাখো বছরেও করবে না|”
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে| বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে ˆবশ্বিক তেল রফতানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়| ফলে এখানে যেকোনও ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে|
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং নৌ-অভিযান পরিচালনার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় ওয়াশিংটনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে| পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের কঠোর অবস্থান এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে|
অন্যদিকে তেহরান বারবার দাবি করে আসছে, তারা কোনও চাপ বা সামরিক হুমকির কাছে নতি ¯^ীকার করবে না| ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা ‘সব ধরনের পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত|
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকট কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোবে নাকি আরও বড় সামরিক সংঘাতে রূপ নেবে-এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে| সূত্র: আল-জাজিরা


















