
ওয়াসিম শেখ, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ ঘাট রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মোঃ আরিফুল ইসলাম ও মোঃ শরিফুল ইসলাম (কচি) নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে| ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ পৌর লশাপাড়া এলাকায়|
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সিরাজগঞ্জ ঘাট রেলপথটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে সেটি সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়| এরপর থেকে রেলওয়ের ওই জায়গা বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহল ইজারা নিয়ে ব্যবহার করে আসছে| বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট, বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান|
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের এই পরিত্যক্ত জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র দখল কার্যক্রম চালিয়ে আসছে| স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের ˆবধ অনুমতি ছাড়াই সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সরকারি সম্পত্তি দখলের শামিল|
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোঃ আল আমিনের কাছ থেকে মোঃ শরিফুল ইসলাম (কচি) রেলওয়ের দোকান ও জায়গার পজিশন গ্রহণ করেন| পরবর্তীতে মোঃ আরিফুল ইসলামের নামে বিভাগীয় রেলওয়ে পাকশীর নিকট থেকে সিরাজগঞ্জ ঘাট এলাকার রায়পুর মৌজার জে.এল নং-১৯০, আর.এস দাগ নং-৬০০২ এর ২০ ফুট দ্ধ ৯ ফুট = ১৮০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ নেওয়া হয়| তবে অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দকৃত ১৮০ বর্গফুটের বাইরে আরও অতিরিক্ত জায়গা দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে| এছাড়াও পাশের পরিত্যক্ত রেলওয়ের জমি ও পুকুর ভরাট করে নতুন ইমারত নির্মাণের কাজ চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন|
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ শরিফুল ইসলাম (কচি) বলেন, আমরা অনুমতি নিয়েই এই কাজ করছি|
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মামুন খান বলেন, এটা কি পৌরসভার ভেতরে? বিষয়টি আমি দেখছি|
বিভাগীয় রেলওয়ে পাকশীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না| অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দুলাল উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিতে বললে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব|
এদিকে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন| তারা অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন|


















