
আরিফ সিকদার:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেড়’শ বছরের পূরনো একটি মসজিদে মুসুল্লিরা নামাজ পড়ছেন খোলা আকাশের নিচে| মসজিদটি উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে অবস্থিত| স্থানীয়রা এটাকে খায়গো বাড়ির মসজিদ বলে ডাকে| আনুমানিক ১৫০ বছর পূর্বে স্থানীয় বাবুখাঁ নামে এক ব্যাক্তি মসজিদটি প্রথমে খর ও বাঁশ দিয়ে নির্মান করেন| এরপর কাঠ গোলপাতা ও টিনের ঘরে চলে বহুবছর| সর্বশেষ ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে চলছিল ইবাদতের কাজ| কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই দেয়ালের পলেস্তার ধসে পড়ে চতুর্পাশে ফাটল দেখা দেয়| মসজিদ কমিটি মুসল্লিদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুরনো মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলে| ওই মসজিদের পুরনো ইট, কমিটির ফান্ডে থাকা সামান্য অর্থ ও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে শুরু হয় একতলা ভবনের নির্মাণ কাজ| দেড় বছর আগে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে অর্থাভাবে কাজটি থেমে রয়েছে| নিরুপায় হয়ে মুসল্লিরা ওয়াক্তের নামাজসহ জুমার নামাজ আদায় করছেন এখন খোলা আকাশের নিচে| কিন্তু বৃষ্টি নামলে নামাজ পড়া আর সম্ভব হয়না|
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী দেলোয়ার মোল্লা বলেন, আমাদের মসজিদে ভরপুর মুসল্লি থাকে| কিন্তু বর্তমানে মসজিদটির ছাদ না থাকায় অনেক মুসল্লী কমে গেছে| ঝড়, বৃষ্টি ও রোদে নামাজ পড়তে অনেক কষ্ট হয়|
মসজিদের ইমাম ও খতিব অলিউল্লা জানান, মসজিদের চতুর্পাশে এক থেকে দেড়শ পরিবার রয়েছে| ওই পরিবারের সদস্যরা এই মসজিদে নামাজ পড়েন| কিন্তু বর্তমানে ছাঁদ না থাকায় ঝড় বৃষ্টিতে তারা নামাজ পড়তে পারেন না| এজন্য দিন দিন মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কমে যাচ্ছে| মসজিদের সহ-সভাপতি হামিদ মিয়া বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মসজিদের কাজ শুরু করেছিলেন| কিন্তু এখন মসজিদের ফান্ডে কোন টাকা নেই| আশেপাশের সকল পরিবারই গরীব তাদের দেয়া অর্থের মাধ্যমে তারা পিলার পর্যন্ত উঠিয়েছেন| মসজিদের সামান্য যে সম্পদ আছে, তাতে বছরে যে অর্থ আসে তা দিয়ে ইমাম মোয়াজ্জিনের বেতন দেয়াই কষ্টকর হয়| বর্তমানে মসজিদ পৌনে তিন লক্ষ টাকা ঋণে রয়েছে| তাই সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মসজিদের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়| মসজিদের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, মসজিদে যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে তাতে তারা সাত থেকে আট লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন| বর্তমানে মসজিদ ঋণে রয়েছে| ফান্ডে আপাতত কোন টাকা নেই| অতিদ্রুত ছাঁদটি দিতে না পারলে মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে| তাই দেশ ও প্রবাসের সকলকের সহযোগিতা তিনি কামনা করছেন|
বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ’র নজরে আনলে তিনি সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন|


















