জয়সাগর নিউজ ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে। অতীতে বিএনপি মানুষের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। সামনে যে সমস্যাগুলো আছে ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই সমস্যাগুলোও সমাধান করা যাবে। গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ সব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বস্তিবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, আপনাদের জন্য। এর আগেও বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, বিএনপি মানুষের কাছে যে জবান দিয়েছে, আমরা আমাদের সাধ্য নিয়ে চেষ্টা করেছি- সেই জবান রক্ষা করার জন্য। আজকে আমি একটা কথা বলতে চাই। আমি জানি না এটা নির্বাচন আচরণবিধিতে পড়বে কিনা, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কিনা, আমি আল্লাহ্র রহমত নিয়ে বলতে চাই, আপনাদের যদি প্রত্যেকের দোয়া থাকে, আল্লাহ্? যদি রহম করেন- আমি এখানে কয়েকটি কাজ করতে চাই, যদি আল্লাহ্? আমাকে সেই সুযোগ দেন। নিজের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- আল্লাহ্ রহম করলে আপনারা এখানে থাকার জন্য যে কষ্ট করছেন, সেই কষ্টটির আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করতে চাই।
এখানে বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই। এখানে যে মানুষগুলো থাকেন তাদের নাম রেজিস্ট্রি করে তাদের প্রত্যেকের নামে আমরা ফ্ল্যাট দিতে চাই। এখানে যারা বহু বছর আছেন, তাদেরকে আমরা সেগুলো দিতে চাই- যাতে করে তাদের ঢাকা শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়। সকল কিছু নির্ভর করছে আপনাদের দোয়ার উপরে।
কড়াইল বস্তিতে শিশুদের জন্য দুইটি স্কুল ও খেলার মাঠ তৈরির ব্যবস্থা করার কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বস্তিতে চিকিৎসার ব্যবস্থার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। বলেন, কড়াইলবাসী এখানে বসবাস করেন, আপনাদেরও সন্তান আছে, আমারও সন্তান আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ হচ্ছে আজকের সন্তানেরা। আমরা চাই, দালানে যে থাকে তার সন্তান যেমন শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাবে, ঠিক একইভাবে কড়াইল বস্তিতে যে মানুষগুলো থাকে- তাদের সন্তানেরাও সেই সুযোগ-সুবিধা পাবে, তাদের সন্তানরাও যাতে লেখাপড়ার সুযোগ পায়, তারা যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায়, তারা যাতে বিদেশি ভাষা শিখতে পারে, তাদের সন্তানরাও যাতে চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে, আল্লাহ্? যদি রহম করেন আমরা আপনাদের জন্য সেই ব্যবস্থা করতে চাই। তিনি বলেন, এই কাজগুলো করতে হলে আপনাদের দোয়া করতে হবে। আল্লাহ্?র রহম চাই। আল্লাহ্? যদি সহায় থাকে প্রত্যেকটি কাজ ইনশাআল্লাহ্? আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।
বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে, এখানে অনেক মুরব্বী আছেন যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখেছেন। আমি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান, আমি আমার দলের একজন কর্মী। আজকে হাজির হয়েছি একটা দোয়া অনুষ্ঠানে। যেহেতু আমরা রাজনীতি করি, এই রাজনীতিটা কাদের জন্য? এটা আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য। আপনাদের দৈনন্দিন জীবন কীভাবে একটু ভালো হতে পারে, সেটি হচ্ছে- আমাদের কাজ, সেটি হচ্ছে- আমাদের লক্ষ্য, সেটি হচ্ছে- আমাদের উদ্দেশ্য। তাই আপনাদের কাছে আমি দোয়া চাই, আল্লাহ্?র রহমত চাই।
কড়াইলের কয়েকজনের বক্তব্যের কথা ?উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে একটা দোয়া মাহফিল। আল্লাহর কাছে আসুন দোয়া চাই। আল্লাহ ?যদি তৌফিক দেন তাহলে আমরা ইনশাআল্লাহ যেকোনো কাজে সফল হতে পারবো। আজ এখানে হাজার হাজার মা-বোনেরা বসে আছেন। সারা দেশে মা-বোনেরা কষ্টের মধ্যে আছেন। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন আমরা সেই মা-বোনদের জন্য, তারা যাতে সচ্ছলভাবে চলতে পারেন, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড দিতে চাই- যাতে করে মা-বোনদের উপকার হয়। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দিতে চাই।
তারেক রহমান বলেন, যে রকম বহু মানুষ এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছেন, আমিও এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছি। প্রিয় ভাই-বোনেরা আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি একসঙ্গে, তাহলে এই এলাকার যে সমস্যাগুলো আছে, আইনশৃঙ্খলার কথা বলেন, রাস্তাঘাটের সমস্যা বলেন, শিক্ষার সমস্যা বলেন- যেই সমস্যাগুলো আছে, আমরা সকলে মিলে ইনশাআল্লাহ-এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো। আপনাদের ওপরে কেউ যদি কষ্ট দিয়ে থাকে, কেউ যদি অত্যাচার-নির্যাতন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। আপনাদের কাছে থেকে কেউ যদি জোর করে কারেন্ট ও গ্যাস বিল জোর করে নিয়ে থাকে- এই যে একটু আগে একটা পরিকল্পনার কথা বলেছি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে কেউ জোর করে আপনাদের কাছ থেকে কিছু নিতে পারবে না। যা মিটার বলবে, যা সরকারের থাকবে, আপনারা শুধু সেটাই দেবেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের অনেকে এই এলাকায় বড় হয়েছেন। আমি কিন্তু আপনাদের এলাকার সন্তান। আগে থাকতাম ক্যান্টনমেন্টে, আপনারা কম-বেশি সবাই জানেন যে বাড়িতে দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা থাকতাম, স্বৈরাচারের সময়ে কীভাবে সেই বাড়িটিকে ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছে। আগে থাকতাম ক্যান্টনমেন্টে এখন আমি উঠেছি গুলশানে, আপনাদের আরও কাছাকাছি, আপনাদের পাশাপাশি। কাজেই আমি আপনাদেরই সন্তান। ইনশাআল্লাহ এতটুকু আমি আপনাদেরকে বলতে পারি, যতদিন বেঁচে থাকবো, যতদিন আল্লাহ রহমত থাকবে আমার ওপরে, ইনশাআল্লাহ আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আপনাদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ আমি আপনাদের পাশে থাকবো।
দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, আমিনুল হকসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাতে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে খালেদা জিয়ার স্মরণে আরেকটি দোয়া মাহফিলেও যোগ দেন তারেক রহমান।



















